Q. Discuss the Nature and Character Of Aligarh Movement?
  • প্রশ্নঃ মুসলিম সমাজের অগ্রগতির  জন্য আলিগড় আন্দোলনের ভূমিকা বা অবদান লেখো ?


➮ব্রিটিশ রাজত্বের প্রথম থেকেই স্যার সৈয়দ আহম্মদ ব্রিটিশের অধীনেএক কর্মচারী হিসেবে জীবন শুরু করেন ।এ সময় তিনি দেখেন ভারতীয় হিন্দুরা ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করে যেভাবে নিজেদের সামাজিক উন্নতি ঘটাচ্ছে , অন্য দিকে মুসলিমরা তা পারছে না। তাই তিনি পাশ্চাত্য ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত করে মুসলমান সমাজকে আধুনিক রূপে গড়ে তোলা প্রচেষ্টা করেন।

রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে "উনিশ শতকের নবজাগরণ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন হিন্দুদের কাছে যাচ্ছিল আলীগড় আন্দোলনের মুসলিমদের কাছে ঠিক তাই ছিল"।

                                   
স্যার সৈয়দ আহম্মদ


স্যার সৈয়দ আহম্মদ খান 1778-1898 খ্রিস্টাব্দে দিল্লির এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এবং আরবি ,ফারসি .উর্দু ইংরেজি ভাষার তিনি দক্ষতা অর্জন করেন।ইংরেজ সরকারের অধীনে একজন কর্মচারী হিসেবে তার প্রথম জীবন শুরু হয়। তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে ইংরেজ সরকারের নিকট সুযোগ সুবিধা গ্রহণের পরিবর্তে মুসলমান সমাজের সার্বিক উন্নয়নের চেষ্টা করেন। সূচনা কাল থেকেই ইংরেজ শাসনের বিরোধিতা ওয়াহাবি আন্দোলন ও বিদ্রোহের ফলে মুসলিম সমাজের ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই তাদের সঙ্গে দূরত্ব বৃদ্ধি করেছিল। যার ফলে মুসলিমরা সম্পত্তি প্রতি-পত্তি সরকারি চাকরি সবকিছু থেকেই বঞ্চিত হতে শুরু করে। সৈয়দ আহম্মদ উপলব্ধি করেছিলেন যে আধুনিক শিক্ষা ও সমাজ ছাড়া মুসলিম সমাজ একেবারেই অচল ।তাই তিনি নারী শিক্ষা ও নারী মুক্তি বিস্তারের পক্ষে এবং পর্দা প্রথা ,বহু বিবাহ, তালাক দেওয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে এ প্রগতি মূলক ভাবধারা প্রসারের জন্য যে সংস্কার আন্দোলন শুরু করেছিলেন তা আলিগড় (Aligarh Movement) আন্দোলন নামে পরিচিত।

বহু জ্ঞানী-গুণী পন্ডিত আলিগড়ে সমাবেত হয়ে সৈয়দ আহম্মদ এর কর্মসূচি আদর্শ রূপায়নে আত্মনিয়োগ করেছিলেন এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন কবি হালি শিক্ষাবিদ খুদাবক্স চিরাগ আলী প্রমূখ।

মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে স্যার সৈয়দ আহম্মদ খান একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। 1864 খ্রিস্টাব্দে তিনি ট্রানসলেশন সোসাইটি নামক সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন পরবর্তীকালে তার নাম হয় সায়েন্টিফিক সোসাইটি। এছাড়াও 1871 খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা বিস্তারে উদ্দেশ্যে তিনি তাহজিব আল-আফ লাখ নামে একটি উর্দু পত্রিকা এবং কমিটি ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অফ লার্নিং অ্যামং দি মহামেডানস অফ ইন্ডিয়া নামক একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। 1875 খ্রিস্টাব্দে তিনি আলিগড় অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই কলেজ পরবর্তীকালে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে (Aligarh University) পরিণত হয়।
                                            
Aligarh University

এই কলেজকে কেন্দ্র করেই মুসলমান সমাজের আধুনিকীকরণ শুরু হয়। মূলত দু'টি বিষয়ের উপর আলিগড় আন্দোলনের উদ্দেশ্যর সূত্রপাত হয়েছিল যেমন (ক) মুসলিম সমাজকে পাশ্চাত্য শিক্ষা বা আধুনিক শিক্ষার আলোকে আলোকিত করে সংস্কারমুক্ত করা (খ) মুসলিম ও ইংরেজদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ইংরেজি শিক্ষা ও আধুনিকতার প্রসারের মাধ্যম যে মুসলিম সমাজের সংস্কার সম্ভব তা সৈয়দ আহম্মদ খান উপলব্ধি করেছিলেন। সৈয়দ আহম্মদ প্রথম জীবনে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের কথা বলতেন; তিনি বলতেন হিন্দু-মুসলিম হলো একই জননীর দুই সন্তান। কিন্তু জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির বিরাট পরিবর্তন ঘটে।তিনি পরবর্তীতে পাইওনিয়ার পত্রিকায় লেখেন যে হিন্দু-মুসলিম দুটি আলাদা জাতি তাই উভয়ের রাজনৈতিক স্বার্থ আলাদা।


আলিগড় কলেজের অধ্যক্ষ থিওডোর বেক হিন্দুও কংগ্রেস বিরোধিতার ক্ষেত্রে সৈয়দ আহম্মদ কে প্রভাবিত করেছিলেন। ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ তার ইন্ডিয়া ডিভাইডেড গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে বেগ হিন্দু-মুসলিম বিভেদ সৃষ্টির জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালান। ইনস্টিটিউট গেজেট নামে পত্রিকা প্রকাশ করে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ অশিক্ষিত হিন্দু-অধ্যুষিত ভারতবর্ষে সংখ্যালঘু মুসলমানদের সম্ভাব্য বঞ্চনার কল্পিত চিত্র তুলে ধরেন।আলীগড় আন্দোলন আগাগোড়া ধর্মীয় সংকীর্ণতায় আবদ্ধ ছিল এবং সাম্প্রদায়িক রূপে বীভৎস ও কদর্য হয়ে ধরা পড়েছিল।তবে শিক্ষিত শহরকেন্দ্রিক বিত্তশালী অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকায় সারাদেশ জুড়ে এ আন্দোলন প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু সৈয়দ আহম্মদ এর নীতি যে সম্পূর্ণরূপে বেকের দ্বারাই প্রভাবিত হয়েছিলএকথা যথার্থ নয় কারণ ;বেক ভারতে আসার পূর্বেই সৈয়দ আহমদ কংগ্রেসের প্রতি বিরোধিতার নীতি গ্রহণ করেছিলেন।ডক্টর শচীন সেন তাঁর বার্থ অফ পাকিস্তান "গ্রন্থে লিখেছেন সৈয়দ আহম্মদ হিন্দু বিরোধী ছিলেন না কিন্তু তিনি ছিলেন মুসলিমদের স্বপক্ষে এবং জাতীয় কংগ্রেসের বিরোধী।"

    পরিশেষে,বলা যায় মুসলিম সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন সাধনের জন্য আলিগড় আন্দোলনের ভূমিকা ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রচার করেন। যার ফলে এই আন্দোলন থেকেই সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের অভিশাপ ক্রমে ভারতে জাতীয় রাজনীতিকে দুর্বল করে তোলে। এই পরিণতিতে দেশভাগ ও পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক কে কে আজিজ "এর মতে আলিগড় আন্দোলন ছিল অংশগত শিক্ষাগত, অংশগত সাহিত্যগত, অংশত ধর্মীয় এবং সম্পূর্ণভাবে সাংস্কৃতিক।"




                             

Post a Comment

If You Have Any Doubts, Please Let Me Know

নবীনতর পূর্বতন