Computer Virus:


                                         কম্পিউটার ভাইরাস এক প্রকার ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম। বাইরের উৎস থেকে কম্পিউটারের মেমোরিতে প্রবেশ করে সেখানে মূল্যবান তথ্য নষ্ট করে এবং কম্পিউটারকে বিকল করে দেয়। ভাইরাস হলো এমন একটি ধ্বংসাত্মক বা অনিষ্টকারী প্রোগ্রাম যা নিজে নিজেকে অন্য সফটওয়্যার বা প্রোগ্রামের কপি করতে পারে এবং সেই প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার এর অনিষ্ট সাধন করে।যে প্রোগ্রামগুলো ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় সেগুলিও ভাইরাস হয় অন্যান্য অসংক্রমিত প্রোগ্রাম গুলিতে সংক্রমণ ঘটায়। তবে ভাইরাস কথাটির অর্থ কি ? 

 ভাইরাস কথার অর্থ হল Vital Information Resources Under Seize (VIRUS).
প্রখ্যাত গবেষক ফ্রেড কোহেন এই ভাইরাস নামকরণ করেন। প্রথম যে ভাইরাসটি পাওয়া যায় তার নাম ছিল 
                                                               
(VIRUS).Vital Information Resources Under Seize

(Creeper) ক্সিপার। ভারতবর্ষে 1990 এর জুন মাসে সর্বপ্রথম যে ভাইরাসটি আবিষ্কৃত হয় তার নাম ছিল
 হ্যাপি বার্থডে যশি (Happy Birthday Joshi)তবে পার্সোনাল কম্পিউটারে যে ভাইরাসটি সর্বপ্রথম
 আঘাত হানে তার নাম হলো (Elk Cloner).


 ভাইরাস ছড়ানোর মাধ্যম ➧

  1. বাইরের হার্ডডিক্স সিডি ,ডিভিডি ,পেনড্রাইভ ইত্যাদির মাধ্যমে প্রোগ্রাম বা ডেটা আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়।
  2. পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়।
  3. নেটওয়ার্ক ভুক্ত এক কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারের অথবা সার্ভারের প্রোগ্রাম এবং ডাটা আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়।
  4. ইন্টারনেটে আমরা যে মেইল বা কোন ফাইল ডাউনলোড করি তার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়।

(Types Of Virus) ভাইরাসের প্রকারভেদ ভাইরাস কত প্রকার হয় 

সারাবিশ্বে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভাইরাস সৃষ্টি হচ্ছে।গতির প্রকৃতি অনুযায়ী নানা ধরনের ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায় তবে এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভাইরাস নিচে আলোচনা করা হলো..............

  • বুট ভাইরাস (Boot Virus) : এই ধরনের ভাইরাস গুলি হার্ডডিস্কের বুট সেক্টর কে আক্রমণ করে । বুট সেক্টর স্থিত মাস্টার বুট প্রোগ্রামটি কে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে সিস্টেমটিকে বুট হতে বাধা দেয়। প্রথম বুট সেক্টর ভাইরাস এর নাম হল Brain 
  • Example: Disk Killer, Stone Virus ইত্যাদি।

  • ফাইল বা প্রোগ্রাম ভাইরাস (File or Program Virus) : এই ভাইরাস বলে কম্পিউটারের ও সফটওয়্যার এর সিস্টেম ফাইল যেমন-.exe,sys,com ইত্যাদি ফাইল গুলোকে নষ্ট করে।
  • Example: Acid Rain, Taojon,Cascade ইত্যাদি।

  • ফ্যাট ভাইরাস (FAT Virus): ফ্যাট ভাইরাস ডিক্স মধ্যস্থ অর্থাৎ ফাইল অ্যাপ্লিকেশন টেবিল (File Allocation Table) (FAT) কে আক্রান্ত করে ডিরেক্টরির ভেতরের কোন ফাইলের তথ্য বা সমস্ত ফাইল নষ্ট করে দেয়।
  • Example: Link Virus

  • রেসিডেন্ট ভাইরাস (Resident Virus): রেসিডেন্ট ভাইরাস কম্পিউটারের প্রধান মেমোরি Ram (Random Access Memory) কে আক্রান্ত করে সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করে। সম্পূর্ণ মেমোরিকে দখল করে নেয় এবং ফাইলগুলি কে Corrupt করে দেয় এবং সিস্টেম কাজে বাধার সৃষ্টি করে। এই ধরনের কয়টি ভাইরাসের নাম হল - CMJ, MrkLunky ইত্যাদি।

  • ম্যাক্রো ভাইরাস (Macro Virus): যে সকল এপ্লিকেশন বা প্রোগ্রাম ফাইল গুলির মধ্যে বর্তমানে এই ভাইরাস সেগুলিকে আক্রমণ করে। ম্যাক্রো ভাইরাস দ্বারা উক্ত প্রোগ্রামগুলো সংক্রমিত হলে সেগুলির কাজে হ্যাং প্রবলেম ফেস করতে হয় অথবা উইন্ডোজ কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়।
  • Example: Y2K, DVM, W97M ইত্যাদি।

এবার জানবো আমরা কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ:


অন্যান্য রোগের মত কম্পিউটারেও রোগ পাওয়া যায় সেটির নাম ভাইরাস (Virus) তবে এই ভাইরাস সংক্রমণের কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ আছে।কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সাথে ঘনিষ্ঠ একজন ব্যবহারকারী অনুভব করতে পারে কখন তার কম্পিউটারটি সুস্থ ভাবে কাজ করছে না। ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কম্পিউটারের স্বাভাবিক কাজকর্মের উলটপালট হতে দেখা যায়। একটি কম্পিউটার কোন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে কি কি লক্ষণ দেখা দিতে পারে সে সম্পর্কে কয়েকটি কারণ নিচে আলোচনা করা হলো                                                

 
                                                   

  •  হঠাৎ হঠাৎ করে কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যায় এবং ধীরগতিতে কাজ করে।
  • কম্পিউটার চালু বা বুটিং হতে বেশি সময় লাগে।
  • হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই সিস্টেম রিস্টার্ট হয় (Restart) হয়।
  • ফাইল এর ভেতরের তথ্যগুলি কোন কারন ছাড়াই উধাও হয়ে যায় বা ডিলিট হয়ে যায় এবং Empty দেখায়।
  • .exe, .com ফাইলগুলির আকার বেড়ে যায়।
  • ডেক্সটপ কাঁপতে থাকে।
  • অনেক সময় BIOS-এর প্রোগ্রাম মুছে ফেলে কম্পিউটারে অচল করে দেয়।
  • সিস্টেমের তারিখ ও সময় পরিবর্তন হয় এবং ফাইল সেভ বা প্রিন্ট করতে অনেক সময় নেয়।
  • কোন কারন ছাড়াই বিভিন্ন ফাইল ও ফোল্ডার এর ভেতর ফোল্ডার অটোমেটিক তৈরি হতে থাকে।
  • Disk এ ব্যাড সেক্টর বেড়ে যায় কারন কিছু কিছু ভাইরাস নিজেদেরকে লুকাবার জন্য সেই ফাইলটি কে Bad Sector হিসেবে চিহ্নিত করে দেয় যাতে কোন অপারেটিং সিস্টেম বা অন্য কোন প্রোগ্রাম ফাইল সেখানে ঢুকতে না পারে।

কম্পিউটারকে ভাইরাস নিরসন ও প্রতিরোধ করার উপায় (Virus Protection Techniques): 

ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে কোন কম্পিউটার পুনরায় কার্যোপযোগী করে তোলা যায়। কিন্তু তাতে মূল্যবান অনেক সময় নষ্ট হয় এ ছাড়াও  প্রয়োজনীয় অতি মূল্যবান তথ্য হারিয়ে যেতে পারে। কম্পিউটার ভাইরাস থেকে কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখা খুব কঠিন কাজ নয়। তবে সাধারণ কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পূর্ব সতর্কতামূলক অবলম্বন করে ভাইরাস নামক ভয়ানক শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
নিচে ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কয়েকটি ছবি দিয়ে  উল্লেখ করা হলো..............

কম্পিউটারে শক্তিশালী এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম যেমন Quick Heal, McAfee,Norton,Kaspersky,Avast ইত্যাদি ইনস্টল করতে হবে। এদের মধ্যে যেকোনো একটি সফটওয়্যার ইন্সটল থাকলে কম্পিউটারে ভাইরাস অনুপ্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে কম্পিউটারকে ভাইরাস মুক্ত রাখে অর্থাৎ Safe রাখে।


Quick Heal, McAfee,Norton,Kaspersky,Avast

  • বিশেষ প্রয়োজনে বাইরের ডিস্ক ব্যবহারের আগে অবশ্যই আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম দ্বারা স্ক্যান করে নেওয়া উচিত।
  • সর্বদা আপডেট অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা ভালো।
  • একান্ত প্রয়োজন না হলে বাইরে ডিস্ক ব্যবহার না করাই ভালো কেননা এর মধ্যে ভাইরাস থাকে।
  • ফ্লপি ড্রাইভ এ কোন ফ্লপি ডিস্ক রেখে কম্পিউটার চালু না রাখা।
  • প্রতিদিন কাজের শেষে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ডেটার ব্যাকআপ(Backups) রাখা এবং প্রোগ্রাম ফাইলগুলি Read-only করে রাখা।
  • ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্ক থাকা দরকার ভাইরাস স্ক্যানিং করে ইন্টারনেট থেকে যেকোনো ফাইল ডাউনলোড করাই ভালো।
  • ইমেইলে অপরিচিত এটাচমেন্ট (Attachment) ফাইল খোলার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া।
  • পাইরেটেড নকল সফটওয়্যার গুলির পরিবর্তে আসল অরজিনাল সফটওয়্যার ব্যবহার করাই শ্রেয়।
  • সম্ভব হলে মাঝে মাঝে Hard Disk টি ব্যাকআপ নিয়ে ফরমেট করে নতুন করে সকল প্রোগ্রাম ইন্সটল করা ।

Firewall  কি ?   

ফায়ারওয়াল হলো এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা যা কম্পিউটারের ইনকামিং (incoming) ও আউটগোয়িং (outgoing) ডাটা (Data) প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে তা ফিল্টার করে নেয়। নেটওয়ার্কের অবস্থিতকম্পিউটার গুলিকে অনধিকার প্রবেশ কারীর হাত থেকে এটি রক্ষা করে ও কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখে। এটি এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে ডাটা প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।দুটি নেটওয়ার্কের মাঝে ফায়ারওয়াল থাকেযাতে এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে কোন ডেটা পরিবাহিত হলে বা ডাউনলোড হলে সেটিকে অবশ্যই ফায়ারওয়াল মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করতে হয়।

                                   



ফায়ারওয়াল তার নিয়ম অনুসারে সেটা পরীক্ষা করে দেখে এবং যদি দেখে যে সে ডেটার ওই গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি আছে তাহলে সেটিকে যেতে দেয়। না হলে সেটিকে ওখানে আটকে রাখে বা কানেকশন ফেল করে দেয়। ফায়ারওয়াল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় (LAN)লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এ ।


ফায়ারওয়াল ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা: 

  • সুবিধা, ফায়ারওয়াল এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ভাইরাস এর বিস্তৃতি হতে দেয় না এবং অনুমোদিত ব্যবহারকারী (Unauthorised user) কে কোনো কম্পিউটারে প্রবেশের অনুমোদন দেয় না।

  • অসুবিধা, ফায়ারওয়াল যত শক্তিশালী হোক না কেন একে যদি সঠিকভাবে কনফিগার বা সেটিং করা না যায় তাহলে থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়।

  • সুবিধা, কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ফায়ারওয়াল কোন কমিটির সাথে বাইরে নেটওয়ার্কের মধ্যে একটি প্রাচীর বা ওয়াল হিসেবে কাজ করে কম্পিউটারের নিরাপত্তা দান করে।

  • অসুবিধাইমেইলের মাধ্যমে বিস্তৃত ভাইরাসের বিরুদ্ধে ফায়ারওয়াল সেখানে কাজ করে না। যেমন (Melissa) মেলিসা নামক ই-মেইল ভাইরাস সরাসরি ফায়ারওয়াল কে ভেদ করেপ্রবেশ করতে পারে। আশা করা যায় হয়তো আগামী দিনে এর একটা সলিউশন বের হবেই।


⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶⇶



Post a Comment

If You Have Any Doubts, Please Let Me Know

নবীনতর পূর্বতন